কাজিরাঙা কাজিরাঙা…

ঘুরে আসি জীবনতরী

“ কাজিরাঙা কাজিরাঙা

কাজিরাঙা ভয়াবহ নয়তো

নয়তো  অভয়ারণ্য…

ভূপেন হাজারিকা। ভূপেনদা আসামের সীমার পরিধি ভেঙে বাংলা, মুম্বাই ছাড়িয়ে সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করেছিলেন।হয়ে উঠেছিলেন সবার অন্তরের প্রিয় ভূপেনদা।সুধাকণ্ঠ ভূপেনদার বহু স্মৃতি বুকে নিয়ে শুধু আজ কেন, চিরসবুজ কাজিরাঙা চিরকাল জেগে রইবে।কাজিরাঙার ঘাস-বন, চড়াই-উতরাই, বনফুল আর বিচিত্র জীবজন্তু ড. ভূপেন হাজারিকার মনে মননে বিস্তার করেছিলো এক অনন্য অনুভূতির। সেই কাজিরাঙা- যার বুকে একদিন বিলীন হয়ে গিয়েছিলো কার্বি পাহাড়ের দুরন্ত যৌবন, ভেসে গিয়েছিলো দুর্বার প্রেমের জোয়ার ভাটায়।

হতে পারে এটা বাস্তব নয়। আসলে কাজিরাঙা একটা স্বপ্নেরও নাম। যে স্বপ্নের আবেশে ডানা মেলে আছে বার্লিনে, আমেরিকায়, ইংল্যান্ডে, ইউরোপে। বলা চলে পৃথিবীজুড়ে। সহজ সরল কার্বিদের জনশ্রুতি, লোককথা, কিংবদন্তির মায়াজালে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে একশৃঙ্গ গন্ডারের বিচরণভূমি কাজিরাঙা। যে কাজিরাঙা হঠাৎ চঞ্চল হয়ে পড়ে একঝাঁক হরিণের পদসঞ্চালনে। অথবা নানা প্রজাতির বানরের হুটোপুটিতে। হস্তীকুলের অবাধ বিচরণে। অথবা হঠাৎ আলো-আঁধারির পথে গা ছমছম করে ওঠে বাঘের গর্জনে। কাজিরাঙা সবমিলিয়ে ভয়ঙ্কর সুন্দর। সাঁঝবেলায় বড় লুইতের বুকজুড়ে রাঙা পরশের আভা আবার জেনো লাজুক করে তোলে কাজিরাঙাকে। কত শত গাছ-গাছালি আর অর্কিডের মেলবন্ধন, পক্ষীকুলের কল-কাকলি বছরের পর বছর ধরে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষণ করে রেখেছে কাজিরাঙা। কার্বি শব্দ ‘কাজি’ মানে হলো ‘ছাগল’। ‘রঙাই’ মানে ‘লাল’। একসময় হাজার হাজার লাল ছাগল বিচরণ করতো এখানে। এই লাল ছাগল মানে হলো হরিণ। আবার জনশ্রুতি রয়েছে ‘কাজির’ নামে এক মহিলা শাসন করতেন এই বিশেষ এলাকা।

মোনালিসার মতো হাসি…

কাজিরাঙা আবার যেন লিওনার্ড দ্য ভিঞ্চির মোনালিসা’র মতোই এক হাসি। যে হাসির আড়ালে থেকে গেছে অন্তহীন অজানা কাহিনী। যা লিপিবদ্ধ হয়নি। রহস্যঘন এই শেষ না হওয়া গদ্য, ছলনাময়ী, রহস্যময়ী রূপসীর অন্য নাম কাজিরাঙা। ভাইসরয় লর্ড কার্জনের পত্নী মেরী কার্জন আসামের প্রকৃতির নন্দিত রূপ লাবণ্যের স্পর্শ পেতে এসে সাক্ষী হয়েছিলেন অসামান্য কিছু বিরল মুহূর্তের। ১৯০৪ সালের সেই বিশেষ দিনটিতেই রহস্যময়ী কাজিরাঙার বুকে খোদাই হয়ে গিয়েছিলো ইতিহাস। একশৃঙ্গ গন্ডারের আবিষ্কার রূপসী মেরী কার্জনকে অভিভূত করেছিলো। পত্নীর আব্দার মেনে নিয়ে লর্ড কার্জন হাজার ১৯০৫ সালের ১ জুন ২৩২ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত অরণ্য, ঘাস-বন, পাহাড়, নদী, খাল-বিল, বণ্য জীবজন্তু, অগুনিত পক্ষীকুলের আবাসভূমি কাজিরাভাকে ঘোষণা করলেন প্রস্তাবিত সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে। সেই শুরু। ততদিনে কাজিরাঙার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে সুদূর ইংল্যান্ড পর্যন্ত। ১৯০৮ সালে সংরক্ষিত বনাঞ্চল পূর্ণ রূপ পায়। কাজিরাঙার বুকে শিকার নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। ১৯৫০ সালে বন সংরক্ষক পি ডি স্ট্রেচি ঘোষণা করেন ‘কাজিরাঙা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য’। ১৯৫৪ সালে চোরাশিকারির হাত থেকে একশৃঙ্গ গন্ডারকে রক্ষা করতে আসাম সরকার প্রথমবারের মতো আইন প্রণয়ন করে। ১৯৬৮ সালে গৃহীত হয় ‘অসম রাষ্ট্রীয় উদ্যান আইন’। আয়তন বাড়িয়ে ৪৩০ বর্গ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে ততদিনে বিস্তৃত হয়েছে কাজিরাঙা। কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজিরাঙাকে রাষ্ট্রীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে। বৈচিত্রময় অনন্য প্রাকৃতিক সুষমার জন্য ইউনেস্কো কাজিরাঙাকে ‘বিশ্ব ঐতিহ্য ক্ষেত্র’ হিসেবে ঘোষণা করে হাজার ১৯৮৫ সালে। কালের বুকে বিলীন হয়ে গেছেন মেরি কার্জন। কিন্তু কাজিরাঙাকে নিয়ে তাঁর স্বপ্ন হারিয়ে যায়নি। সার্থক হলো একশৃঙ্গ গন্ডারকে সংরক্ষণ করার স্বপ্নও। কার্বি পাহাড়ের সেই চঞ্চলা রূপসী যৌবনবতীর মতো মেরির স্পর্শও যেন বেঁচে থাকলো এখানকার প্রতিটি সুরে।বুড়া পাহাড়ের পাথরের বুকে প্রতিহত হয়ে যে সুর আজও কুলু কুলু শব্দে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয়ে চলছে।

একটা স্বপ্নের নাম…

কাজিরাঙা মোর সবুজ স্বপন- কেবল সুধাকণ্ঠেরই সবুজ স্বপ্ন নাকি কাজিরাঙা? নয়তো! কাজিরাঙা আমার-আপনার সবুজ স্বপ্ন। স্বপ্নে মায়াজালে যদি আপনি হারিয়ে যেতে চান, তবে আসুন না একবার প্রতিদিনকার কর্মব্যস্ততা একপাশে ঠেলে রেখে। এখানকার রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো অপেক্ষা করছে সকলের জন্য। এখানকার প্রকৃতির সাথে চিরদিনের ভালো লাগার সম্পর্ক গড়ে উঠবে একবার মাত্র পা রাখলেই। ১৯৬১ সাল। জার্মানির রাজধানী বার্লিন দুরদর্শনের মাধ্যমে পৃথিবী দেখেছিলো কাজিরাঙাকে। ক্যামেরা হাতে নিয়ে সেদিন ডা. রবীন ব্যানার্জি খুঁজে পেয়েছিলেন এখানে লুকিয়ে থাকা অপার বিস্ময়ের ভান্ডারকে। সেই একদিনের সন্ধানের পর থেকে ডা. ব্যানার্জির সাথে কাজিরাঙার প্রেম উপন্যাস হয়ে রয়েছে। চিকিৎসক মানুষটি নিজেকে বিলীন করে দিয়েছিলেন প্রেয়সী কাজিরাঙার বক্ষজুড়ে। প্রেয়সীর বক্ষজুড়ে লুকিয়ে থাকা বিস্ময়ের অজস্র কাহিনী আর আলোকচিত্র ডা. ব্যানার্জি উজাড় করে দিয়েছিলেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রকৃতিপ্রেমীদের সামনে। সেই থেকে সাধারণ পর্যটক থেকে শুরু করে আলোকচিত্র শিল্পী, সাংবাদিক, লেখক, প্রকৃতিপ্রেমী, বিজ্ঞানী, ছাত্র, গবেষক, ইতিহাসবিদ সবার আগ্রহ ও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে কাজিরাঙা। যিনি একবার পা রেখেছেন, তার সাথে কাজিরাঙার সম্পর্ক চিরকাল অমলিন থেকে গেছে।

একশৃঙ্গ গন্ডার…

কাজিরাঙার একশৃঙ্গ গন্ডার এখন আসামের প্রতিটি মানুষের আত্মমর্যাদার প্রতীক। সরকারি তথ্য অনুযায়ী এই রাষ্ট্রীয় উদ্যানে এখন ২৪১৩ টি একশৃঙ্গ গন্ডার রয়েছে। বন্য হাতিসহ ৩৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী জীব জন্তু রয়েছে এখানে। পৃথীবির ৫৭ শতাংশের বেশি বন্য মোষের বিচরণ ভূমি কাজিরাঙা। সবথেকে বেশি বাঘও রয়েছে বলে দাবি। হুলো বানর, সোনালী বানরসহ ১৪ প্রজাতির বানরের বাসস্থান এই উদ্যান।চার নদীর মিলনভূমি কাজিরাঙায় নানা প্রজাতির মাছ, কাছিম ও ডলফিনের অপূর্ব সমাহার।

শীতের আগমনী বার্তা পেলেই পর্যটকদের জন্য সেজে ওঠে কাজিরাঙা। গুয়াহাটি শহর থেকে ২৩৯ কিলোমিটার মসৃণ পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছাতে পারেন এখানে। যারা বিমানবন্দর হয়ে আসবেন, জালুকবাড়ি পৌঁছালে তাদের সামনে ভেসে উঠবে ভূপেন হাজারিকার সুবিশাল স্মৃতিসৌধ। যা দেখে এক মুহূর্তের জন্য হলেও বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে মন। নবনির্মিত অতিকায় ফ্লাইওভার ধরে বাঁদিকে এগুতেই পেয়ে যাবেন সুবিস্তৃত মহাবাহু। কাজিরাঙার বক্ষ ছুঁয়ে সাগর অভিমুখে ধাবমান মহাবাহু ব্রহ্মপুত্র এই শরাইঘাটে এসে যেন একপলক থমকে দাঁড়ায়। সুধাকণ্ঠ ভূপেনদাকে দিয়ে যায় কাজিরাঙার প্রাণের খবর।

যারা রেলস্টেশন থেকে আসবেন তারা নীলাচল পাহাড়ে সদাজাগ্রত মা কামাক্ষ্যার মন্দিরে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসতে পারেন। পথে তার আগে হয়তো পেরিয়ে এসেছেন শুক্লেশ্বর মন্দির। তার থেকে কিছুটা দূরে মহাবাহুর বুকে সটান দাঁড়িয়ে উমানন্দ। নৌকায় যেতে হয়। ৫২ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে কাজিরাঙা যেতে পথে পাবেন বানরাজার কাহিনীধন্য তেজপুর। ঊষা আর অনিরুদ্ধের প্রেমকাহিনী যেন এখনও সজীব। কালিয়াবর পাবার আগে পর্যন্ত আরও অনেক অজানা কাহিনী ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তারপরেই যখন বুকের ঢিপঢিপ শব্দ ক্রমাগত বাড়তে থাকবে, বুঝবেন কাজিরাঙা এবার আপনাকে দেখতে পেয়ে গেছে।

এই পথে না এসে 37 নম্বর জাতীয় সড়কের যোরাবট, সোনাপুর, নগাঁও হয়েও আসতে পারেন। অথবা আসতে পারেন আকাশপথে। যোরহাট এসে সেখান থেকে মাত্র ৯৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কাজিরাঙায়। যারা ট্রেনে আসবেন তারা যদি গুয়াহাটি না নেমে ফরকাটিং স্টেশন পর্যন্ত এগিয়ে যান তবে গোলাঘাট হয়ে মাত্র ৭৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলে পৌঁছে যাবেন কাজিরাঙা। যদি যোরহাট, গোলাঘাট হয়ে আসেন তবে বাগরিতে এসে দৃষ্টিকে সুদূরে বিস্তৃত করে দিন। হয়তো হঠাৎ চোখে পড়তে পারে কয়েকটা গন্ডার। যাদের পিঠে হয়তো বসে আছে কয়েকটা চড়াই পাখি। এক ঝাঁক হরিণেরও দেখা মিলে যেতে পারে।

যদি গুয়াহাটির দিক থেকে আসেন তবে আপনি পাবেন বুড়াপাহাড়। কোঁহরা পাবার আগে কার্বি পাহাড়ের দিক থেকে কাঞ্চনজুরি, পানবাড়ি হয়ে নেমে আসতে পারে বন্য হাতির দল। আপনাকে দেখে ক্ষণিকের জন্য দাঁড়িয়েও পড়তে পারে গজেন্দ্র। কাজিরাঙায় আপনাকে স্বাগত জানানোর জন্য। ব্রহ্মপুত্রের দুই পাড়ের নগাঁও, গোলাঘাট, কার্বি আংলং আর শোনিতপুর জেলাগুলোর অংশজুড়ে বিস্তৃত বিশাল উদ্যানের উত্তর পাড়ে ভ্রমণ করার ইচ্ছে হলে আপনাকে কলিয়াবর হয়ে বিশ্বনাথ চারিয়ালী পর্যন্ত যেতে হবে। কাজিরাঙার এলাকা এখন বেড়ে ৮৬০ বর্গ কিলোমিটার।

রোমাঞ্চকর হাতি সাফারি…

হাতি সাফারিতে যদি যেতে চান তবে আপনাকে বিছানা ছাড়তে হবে ভোররাতে। কলার কোঁহরার মিহিমুখ বাগরি থেকে আপনাকে পিঠে নিয়ে হস্তিকুলের পথ পরিক্রমা উন্মোচন করে এক অপার বিস্তৃত সৌন্দর্যের অদেখা পৃথিবী। যদি যেতে চান জিপ সাফারিতে, সেটাও সকাল সকাল গেলে ভালো। একটা কথা বলে রাখি, সাফারিতে যাবার সময় রঙ বেরঙের পোশাক একদম পরবেন না। কোলাহলও করবেন না। অন্যথায় কাছ থেকে বন্যজন্তু দেখার সুযোগ নাও হতে পারে। নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে পর্যটকদের জন্য কাজিরাঙার দরজা খুলে দেয়া হয়। হাতি সাফারির জন্য আগে থেকে যোগাযোগ করে রাখলে ভালো। কারণ, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা অগ্রিম বুকিং করে রাখতেই পছন্দ করেন।

 

এখানে এলে উঠবেন কোথায় ?

পর্যটন দপ্তরের অরণ্য, বনানী, বনশ্রী আর কুঞ্জলতা লজ তৈরি আছে আপনার জন্য। কোঁহরাতে অবস্থিত এই লজগুলো ছাড়াও রয়েছে আয়রা আর বড়গছ নামের দুটি বিলাসবহুল আধুনিক রিসর্ট। ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কের দিরিং চারিয়ালি থেকে এক কিলোমিটারের মতো এগিয়ে গেলে রয়েছে বিখ্যাত ‘ওয়াইন্ড গ্রাস’। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় এই রিসর্টের পাশেই রয়েছে কাজিরাঙার দ্বিতীয় ট্যুরিস্ট লজ রেস্টুরেন্ট ‘বনহাতি’।দুপুরি, ধনশিরি, এমারেল্ডসহ অগুনতি ছোট-বড় হোটেল, লজ রয়েছে। জখলাবান্ধার কাছে জি এল রিসর্ট আর বনরজাইও অতিথিদের বরণ করে নেবার জন্য তৈরি রয়েছে।

আপনি ভারতীয় হলে কাজিরাঙায় প্রবেশের জন্য মাথাপিছু মাশুল দিতে হবে ২০ টাকা। বিদেশীদের জন্য মাথাপিছু ২৫০ টাকা। হাতি সাফারিতে জনপ্রতি খরচ  ৫০০ টাকা। কিন্তু বিদেশীদের জন্য এটাই আমার ১,৫০০ টাকা। ক্যামেরার জন্য ভারতীয়দের ৫০ টাকা আর বিদেশীদের ৫০০ টাকা দিতে হয়। ভিডিও ক্যামেরার জন্য সেটাই ক্রমান্বয়ে ৫০০ এবং ১,০০০ টাকা। কাজিরাঙা সম্পর্কে জানতে হলে নিম্ন ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন–

উপ-সঞ্চালক, কাজিরাঙা রাষ্ট্রীয় উদ্যান, আসাম পর্যটন, কোঁহরা, কাজিরাঙা–৭৮৫১০৯

ফোন- ৩৭৭৬-২৬২৪২৩ এবং ৩৭৭৬-২৬২৪২৯

 

By- সত্যজিৎ শইকীয়া (অনুবাদক – বাপী ভৌমিক)

 

7 thoughts on “কাজিরাঙা কাজিরাঙা…

  1. In this iconic fighting misrepresent, players meet in head-to-head battles, utilizing a roster of characters with unique fighting styles and fatalities. The necessary objective in https://mortalkombatplay.com is to outfight opponents in insensitive, high-stakes matches, making it a favorite all of a add up to fighting contest enthusiasts.

  2. In this unequalled stratagem, solar smash, the strongest aspiration is to blot out planets with sundry weapons. Players can analysis distinct methods of destruction and enjoy the spectacular outcomes, providing a captivating sandbox experience.

  3. This first-person shooter business focuses on multiplayer combat. Players strive in different game modes like Gang Deathmatch and Free-For-All in Bullet Duress, using a distinct arsenal of weapons. The game’s realistic graphics and ready gameplay gain https://bulletforcgames.org a spine-tingling face for fans of FPS games.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *