মানসিক স্বাস্থ্য ও ডায়েট

জীবনতরী ভালো থেকো

রবি ঠাকুরের ভাষায়—

“মরিতে না চাহি এই সুন্দর ভুবনে

মানবের মাঝে বাঁচিবারে চাই”

কবিগুরুর সুন্দর ভুবন আজ বিশৃঙ্খলা ও তিক্ততার ধোঁয়াশায় আচ্ছন্ন। চারদিকে বিভিন্ন ক্রাইসিস। সেটা সমাজিক হোক, মানসিকই হোক বা অর্থনৈতিক। মানুষ প্রতিনিয়তই বাঁচার জন্য লড়াই করছে। কিন্তু এই লড়াইয়ের ধরণ ও ফল সুস্থ নয়। ফলে মানুষ অবসাদ, বিষাদ, নেশা ইত্যাদির কবলে পড়ে সমাজ ও দেশকে কলুষিত করছে।

কিছুলোক সামাজিক টানাপোড়েনের জন্য চিন্তত থাকেন। আবার কিছু আর্থিক অনটনের জন্য। বেকারত্বের জ্বালায়, শারীরিক অসুস্থতায় বা আনন্দদায়ক গ্যাজেটের কারণেও অবসাদ আসে। শারীরিক সুস্থতার সাথে মানসিক সুস্থতাও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আজকাল মোটা হওয়া একটা বড় সমস্যা। মোটা মানুঋ তার অনৈচ্ছিক ওজনকে নিয়ে খুবই অবসাদে ভোগেন এবং না খেতে শুরু করেন। ফলে দুর্বলতা আসে ও বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। আবার কিছু মানুষ খুব বেশি খেতে শুরু করে দেয়। ফলস্বরূপ চরও মোটা হতে থাকেন। ক্যান্সার ও লিভারের জটিল রোগীদেরও শরীরের চেয়ে মন বেশি ভোগে। ফলে রোগীর রেগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। যেমন পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম ইত্যাদিও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির জন্য দয়ী।

তার পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত এক-দু’টা চকোলেট খাওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি।কিন্তু একটা কথা মনে রাখা উচিত যে সবার জন্য কিন্তু ডায়েট এক হয় না। একেক জনের একেক রকম। সঠিক আহার দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের পথ্য। সঙ্গে যোগব্যায়াম এবং জীবনের শৃঙ্খলাকে জুড়ে দিন। ফারাকটা নিজেই বুঝবেন। বুঝবে চারপাশের লোকজনও।

মন যদি অশান্ত থাকে তবে অতিরিক্ত তৈলাক্ত, মশলাদার কিছু খাওয়া এড়িয়ে যান। এসব খাদ্য মানসিক স্বাস্থ্য বিঘ্নিত করে। আবার বিভিন্ব প্রিজার্ভেশন দেওয়া খাদ্য, যেমন আচার, সস্, প্রক্রিয়াজাত খাবার বা ট্রান্স ফ্যাট যুক্ত খাবার যেমন কোল্ড ড্রিংকস, প্যাকেটজাত ফলের রস ইত্যাদিও সমানভাবে দায়ী। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাদ্য, রেড মিট, মাদক দ্রব্য, সিগারেট ইত্যাদিও ক্ষতি করছে মানসিক স্বাস্থ্যের। এই খাদ্যগুলি থেকে বিরত থাকলেই শরীরের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য ও উন্নত হবে। কিছু হার্বস আমাদের প্রত্যেকের বাড়িতেই রয়েছে। যেমন তুলসী পাতা, পুদিনা, পারস্লে, থানকুনি, বসাক, কালোমেঘ ইত্যাদি। কাজে লাগান সেগুলো। তাছাড়া বিভিন্ন মরশুমী ফল ও সবজি মানসিকভাবে আপনাকে দৃঢ় করে তুলতে পারে।

By-দয়িতা চৌধুরী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *